জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডায়াডিক ইন্টারন্যাশনালের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ তার প্রথম ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যে একটি অত্যাধুনিক ভ্যাকসিন সুবিধার সূচনা উপলক্ষে ইতোমধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক এহসানুল কবির এবং ডায়াডিক ইন্টারন্যাশনালের সিইও মার্ক এ এমালফার্ব আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এই সহযোগিতার শর্তাবলীর অধীনে, ডায়াডিক ইন্টারন্যাশনাল তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং গুণগত মানের নিশ্চয়তা প্রদানে ইডিসিএল-কে শক্তিশালী করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি – এই উদ্যোগের রূপান্তরমূলক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, “এই প্ল্যান্টের প্রধান প্রচেষ্টা হবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদন। সেইসাথে এই পদক্ষেপটি বহিরাগত ভ্যাকসিন সংগ্রহের উপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কোভিড মহামারী চলাকালীন ৪০,০০০ কোটি টাকা মূল্যের ৩৬০ মিলিয়ন ডোজ আমদানি করেছে, যার মধ্যে অনেকগুলি অনুদানের অর্থে ক্রয় করা হয়েছিল।

মাননীয় মন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি – ভ্যাকসিন প্ল্যান্টের সম্প্রসারণের জন্য সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন ছাড়াও এই প্ল্যান্টে ইপিআই-এর রুটিন ভ্যাকসিন সহ আরও বারোটি ভ্যাকসিনের উৎপাদন বিস্তৃত পরিসরে চালু করবে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের টিকাদানের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলবে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য গোপালগঞ্জে ৭ থেকে ৮ একর প্রশস্ত একটি জায়গার প্রস্তাব ইতোমধ্যে উত্থাপন করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতির অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা দুই বছরের মধ্যে আংশিক উৎপাদন এবং চার বছরের মধ্যে ক্রমান্বয়ে পূর্ণ-পরিসরে উৎপাদন শুরুর পাশাপাশি প্ল্যান্টের কার্যক্রমকে সহজতর করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ভ্যাকসিনের স্বনির্ভরতার দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেবল তার স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোই বৃদ্ধি করবে না, বরং ফার্মাসিউটিক্যাল অগ্রগতিতে আঞ্চলিক নেতৃত্ব হিসাবে তার অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। জাতি যখন তার প্রথম ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টিকাদান স্থিতিস্থাপকতার একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। 

 

Share:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.